মোঃ আব্দুস সালাম সুজন (জাগো সোনারগাঁও২৪.কম)
বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ।১২০ কিলোমিটারের দীর্ঘ এই বিচে কে না যেতে চায়? ভ্রমন পিপাসুদের মধ্যে শীর্ষে থাকা সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা এই কক্সবাজার। সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকে। তবে সঠিক দিকনির্দেশনা ও পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেক পর্যটকই বেশ বিড়ম্বনায় পড়ে এই স্থানটিতে ভ্রমন করতে গিয়ে। আজ আপনাদের সবির্ধাথে কিছু পরার্মশ ও সর্তকতা দেওয়া হবে এই লেখায়। সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত এই সময়টা কক্সবাজারে ভ্রমন পিয়াসুদের জন্য সিজন থাকে । শীতকালে গেলেই সবচেয়ে ভালো সময় কাটানো যায়। তবে বছরের সব সময় পর্যটকরা এখানে ভ্রমন করতে যায়। পরিবার বন্ধু- বান্ধব কর্পোরেট ,ও বিভিন্ন অফিস ও সংস্থার লোকজন এখানে বেড়াতে আসে। বিদেশ থেকেও অনেক ভ্রমন পিপাসু পর্যটকও এখানে আসে। সমুদ্রের গর্জন ও নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে বাংলাদেশের সব জায়গা থেকে মানুষের ঢল নামে কক্সবাজারে। ঢাকা থেকে বাসে করে ও ট্রেনে করে বা বিমানের অভ্যন্তরীন ফ্লাইটের মাধ্যমেও কক্সবাজার যাওয়া যায়। তবে বাসেই বেশি পর্যটক কক্সবাজারে যায়। সাধারণ ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী, আরামবাগ,গুলিস্তান, কমলাপুর, কল্যানপুর আবদুল্লাহপুর সহ অনেক স্থান থেকেই কক্সবাজারের বাস যাওয়া আসা করে। এসি/স্লিপার,নন এসিসহ অনেক পরিবহনই যাত্রীদের সেবা দিয়ে থাকে।পরিবহন গুলোর কথা বললে হানিফ পরিবহন ,গ্রীন লাইন, এস.আলম,সেন্টমার্টিন পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, সোহাগ পরিবহন উল্লেখযোগ্য ,তবে বর্তমানে এসি স্লিাপার বাসের চাহিদাই বেশি । ঢাকা থেকে সর্বনিন্ম ১০০০ টাকা হলেই স্লিপার বাসে করে যেতে পারবেন। তবে বিভিন্ন কোম্পানীর স্লিপার বাস আছে। মান অনুযায়ী ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০/২২০০ টাকাতে আপনি যেতে পারবেন অনায়াসে। আগে থেকে টিকিট বুকিং করে গেলে ভাড়া একটু বেশি পড়বে। আর আপনি যদি তাৎক্ষনিক টিকিট কেটে যান তাহলে কম টাকায় যাওয়া যায়। নন এসি বাসগুলোতে আপনি ৯০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে যেতে পারবেন। তবে সিজন ও অফসিজন বিবেচনায় এই দাম কিছু নড়চড় হতে পারে। সিজনে গেলে আপনাকে একটু বেশি টাকা খরচ করেই যেতে হবে। আর অফসিজনে গেলে আপনি গাড়ি ভাড়া ও হোটেল মোটেল ও রির্সোটে কম টাকায় যেতে ও থাকতে পারবেন। আর ট্রেনে টিকিট কেটে যেতে হলে শোভন চেয়ারে আপনাকে গুনতে হবে ৬০০/৭০০ টাকা আর কেবিনে ১২০০/১৪০০ টাকা। ট্রেনে যেতে চাইলে অবশ্যই আগে বুকিং দিয়ে রাখতে হবে। অভ্যন্তরীন ফ্লাইটে বিমানে গেলে ইউ.এস.বাংলা,নভো এয়ারে আপনি ৪৫০০ টাকা থেকে ৮০০০ টাকায় যেতে পারবেন। আসলে কক্সবাজারে গেলে নির্ভর করবে আপনি কেমন টাকা খরচ করবেন সেই দিকটা বিবেচনা করতে হবে।আপনি যদিএকটি বাজেট ট্যুার দেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে। সেই ক্ষেত্রে আপনি ৪/৫ জন একেসাথে গেলে অনেক কম টাকায় ঘুরে আসতে পারবেন।
এবার আসা যাক হোটেল ভাড়ায়। কক্সবাজারে সবচয়ে বেশি লোক থাকে সুগন্ধা ও কলাতলী বিচে।
সুগন্ধা পয়েন্টের কাছে আপনি ২৫০০/ ৩০০০ হাজার টাকার মধ্যে মোটামোটি ভালো মানের একটি হোটেল পাবেন। তবে এর নিচে নামলে আপনাকে একটু ভোগান্তিতে পড়তে হবে। এছাড়াও লাবনী পয়েন্টেও আপনি হোটেল ভাড়া নিতে পারেন। মোট কথা আপনি আপনার বাজেট যদি প্রতি রাতে ৫০০০ থেকে ৮০০০ টাকা হয় তাহলে আপনি সকালের ব্রেকফাস্ট ও সুইমিং পুলসহ একটি হোটেল পেয়ে যাবেন। আর যদি বন্ধুবান্ধব মিলে যান তাহলে চেষ্টা করবেন কক্সবাজারে গিয়ে দেখে দরদাম করে হোটেল ভাড়া করতে। সেই ক্ষেত্রে আপনি কম টাকায় হোটেল পেয়ে যেতে পারেন। আর যদি আগে থেকেই বুকিং দিয়ে যান সেক্ষেত্রে আপনি অনলাইনে বুকিং দিয়ে রিভিউ দেখে নিতে পারেন। ভালো মানের হোটেলের তালিকায় শীর্ষে আছে হোটেল সাইমন, রামাদা, মারমেইড বিচ রিসোর্ট, লং বিচ ভিউ রির্সোট, সি-গাল, ওশান প্যারাডাইস, সি ওয়ার্ল্ড, হানিমুন রিসোর্ট, হোয়াইট বিচ ইত্যাদি অসংখ্য হোটেল রিসোর্ট আছে। এছাড়া যারা পরিবার ও বন্ধু বান্ধব নিয়ে একসাথে বেশ কয়েকদিন থাকতে চান খরচ কমাতে একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে খরচ অনেকটা কমে যাবে।
পাঁচতারকা মানের একটি হোটেলে থাকলে আপনাকে দৈনিক সর্বনিম্ন ৮০০০ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা গুনতে হবে। আর ৩ তারা মানের হোটেলে থাকতে হলে ৫০০০ টাকা থেকে ৮০০০ টাকায় মিলে যেতে পারে আপনার কাঙ্খিত হোটেলটি। এটা বিবেচনা করে সময়ের উপর। অফ সিজনে অনেক হোটেল মালিকগণ পর্যটকদের আকর্ষণ করতে ৪৫%-৬০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকে।
এবার আসা যাক কোথায় কোথায় ঘুরবেন ও কীভাবে ঘুরবেন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত মনকে প্রশান্ত করে। অনেকে বলে অশান্ত মনকে শান্ত করতে সমুদ্র ভ্রমনে যাওয়া ছাড়া গতি নেই। কাজ করতে করতে হাপিয়ে গেছেন কক্সবাজার ঘুরে আসুন সমুদ্রের নোনা জলে ডুব দিলে বিক্ষিপ্ত মন ক্ষনিকের জন্য শান্ত হয়ে যাবে। প্রথমেই আপনি সীবিচে গিয়ে শরীরকে শান্ত করবেন। সমুদ্রের নোনা পানিতে ও সাগরের উত্তাল বড় বড় ঢেউয়ের সাথে খেলা করবেন। দেখবেন নিমিষেই আপনার মন ভালো হয়ে যাব। তবে প্রবল স্রোতের দিকে ও চোরা বালির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। রেডজোন মেনে আপনাকে সমুদ্রে গা ভেজাতে হবে। নইলে বিপদে পড়তে হবে। কক্সবাজার টুরিষ্ট পুলিশ সেই ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে । তাদের টিমের সদস্যরা হ্যান্ড মাইক নিয়ে সর্বদা সর্র্তক করছে। তাই অনুরোধ থাকবে নামার আগে জোয়ার ভাটা সর্ম্পকে ভালো করে জেনে নেওয়াই ভালো। কক্সবাজারের কাছেই হিমছড়ি ঝর্না ইনানি বিচ,মেরিন ড্রাইভ রোড, মহেশখালি স্বর্ন মন্দির ও বুদ্ধ মন্দির কতুবদিয়া ,রামুও সেন্টমার্টিন দ্বীপেও ঘুরে আসতে পারেন।
খাওয়া দাওয়া: খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো মানের হোটেল হলো পালংকি রেষ্টুরেন্ট, আল গণি রেষ্টুরেন্ট ও শালিক রেষ্টেুরেন্ট,পউশি রেষ্টুরেন্ট,ধানসিড়ি, ঝাউবন ইত্যাদি। পালংকি ও আলগনিতে জিলাপী টেষ্ট করতে পারেন। ঘিয়ে ভাজা জিলাপির স্বাদ অনেক ভালো লাগবে আপনার। খাবারের দাম একটু বেশী হলেও তাদের খাবারের মান ও পরিবেশ অনেক সুন্দর। এছাড়াও অনেক ভালো সার্ভিস দেওয়ার কারনে আল-গণি ও পালংকি রেষ্টুরেন্ট অনেক সুনাম অর্জন করেছে। এছাড়াও সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্টে বেশ কিছু খাবারে হোটেল আছে। তাদের খাবারের মান মন্দ না। সী ফুড খেতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে দেখে যাচাই বাছাই করে দরদাম করে খেতে হবে। কারণ তারা অকে দাম হাকায় পযটকদের কাছে। আর অনেক সময় আগের নষ্ট মাছ মসলা লাগিয়ে রাখে। এছাড়াও আপনি মাছ কাটা থেকে শুরু করে বারবিকিউ করা নিজ দায়িত্বে দাড়িয়ে থেকে করে নিতে পারেন। এতে করে তারা প্রতারনা করতে পারবেনা। যারা দামাদামিতে পটু তারা ভালো সী ফুড কিনতে পারে। সন্ধ্যার পর কাকড়া, স্কুইড, টোনা ফিস, কোড়াল ফিস বারবিকিউ করে খেতে পারেন।
সর্তকর্তাঃ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হবে সমুদ্র তীরে ছবি তুলতে গেলে এক টিপে ৪ /৫টি করে ছবি বের করে ক্যামেরাম্যানরা। এদের সাথে পাড়া মুশকিল তবুও যতটা পারা যায় দরদাম করে নিবেন। এবং তাদের কাছ থেকে সাবধান থাকবেন। আরেকটা বিরক্তের দিক হলো রিক্স্রা ও অটো ভাড়া করা । তাদের দৌড়াত্ত্বে বিরক্ত হয়ে যেতে হয়। সব শেষে বলা যায় আনন্দ করতে গেলে কিছু সমস্যা ফেস করতে হবে এটাই স্বাভাবিক তবে চোখ কান খোলা রেখে সব দিক ভালো করে যাচাই বাছাই করে নিলে আপনার ভ্রমন হবে আনন্দময়।