মোঃ আব্দুস সালাম সুজন
যে বয়সে একজন শিশুর কাঁধে থাকার কথা স্কুল ব্যাগ সেই কাঁধে চায়ের ফ্লাক্স অন্য হাতে একটি কাপড়ের থলে। দোকানে দোকানে গিয়ে নির্বাক হয়ে চেয়ে থাকে আর ইশারায় বলে চা খাবেন? সাত বৎসরের ছোট্ট শিশু অন্তর। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে মা ও অন্তর সহ ছোট ২ ভাই -বোনকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দী গ্রামে ছোট্ট একটা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। মা অসুস্থ ছোট দুই ভাই-বোনকে নিয়ে সেই ছোট্ট খুপরি ঘরে বসবাস করে। মা চা ও কফি বানিয়ে দেয় আর অন্তর সেই চা-কফি নিয়ে বিক্রি করে। কোন দিন ৫০০-৭০০ টাকা বিক্রি হয় আবার কোন দিন ২০০- ৩০০ টাকা বিক্রি হয়। সেই টাকা দিয়েই সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে যায় অন্তর । অন্তরের বাবা তাদের রেখে চলে গেছে প্রায় ৬ মাস হলো। তার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে এতোদিন সংসার চালাতো। মায়ের লিভারের সমস্যা দেখা দেওয়ায় ও অন্যন্য রোগব্যধি দেখা দেওয়ায় এখন আর কাজ করতে পারে না। মায়ের ঔষধের জন্যও প্রতিদিন ১৫০ টাকা খরচ করতে হয় অন্তরকে। এতো ছোট্ট বয়সে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে অন্তর। অন্তরের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকরে দীর্ঘ আলাপ-চারিতায় জানা যায় তার মনের লুকায়িক স্বপ্নের কথা। অন্তর ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয়েছিল কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর তার আর স্কুলে পড়া-লেখা করার সৌভাগ্য হয়নি। স্কুলব্যাগ ও বই খাতার পরিবর্তে তার কোমল হাতে উঠেছে সংসার চালানোর জন্য চায়ের ফøাক্স ও কাপের থলে। নিদারুণ অর্থ কষ্টে থেকে বেছে নিয়েছে চা-কফি বিক্রি করে টিকে থাকার জন্য লড়াই। জীবনকে কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেদিকে বেশি মনোযোগ অন্তরের। জীবন- যুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে অন্তর। অন্তরের অনেক ইচ্ছে পড়ালেখা করার সাথে সাথে মাকে উন্নত চিকিৎসা করে সেরে তুলবে। অন্তরের কাছে অনেকে চা খায় আবার অনেকে চা কফি না খেয়েই টাকা দিয়ে দেয়। তবে এমনি এমনি টাকা নিতে সংকোচ করে অন্তর। এই বয়সে অনেক কিছুই খেতে মন চায় অন্তরের। নাটাই ,ঘুড়ি ও লাটিম খেলতে পছন্দ করে সে। তাই তো যেদিন বাড়তি ইনকাম হয় সেদিন একটি লাটিম ও খেলনা কিনে নিয়ে যায়। ছোট ভাই-বোনদের জন্য মাঝে মাঝে খাবার কিনে নিয়ে যায় অন্তর। চা-কফি বিক্রি করে চাউল ,মাছ ও সবজি কিনে নিয়ে যায় সে। মা অপেক্ষা করে কখন অন্তর বাড়িতে বাজার- সদাই নিয়ে যাবে। অনেক সময় দুপুরে খাওয়া হয় না তার। অন্তরের বাবা একজন মাদকসেবী। তাদের ভরণ পোষণের কোন দায়িত্বই সে পালন করে না। বাংলাদেশে এমন হাজারও অন্তর মা-বাবার ভুলের কারণে পড়ালেখা ও মানসম্মত জীবন-যাপন করতে পারছে না। আমাদের সমাজ ব্যব¯’ায় এরকম শিশুদের টিকে থাকা অনেক কষ্ট। তাই সমাজের বিত্তবান মানুষদের এই রকম অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে।